
#মি.ক্ষ্যাত
#মুনতাসির_হাছান_তামিম
#পর্ব_৫
তামিম আর বর্ষা বিকালে ৫টার (American Time) দিকে আমেরিকার Phonix sky harbor International এয়ারপোর্টে পা রাখে, এয়ারপোর্টের সব নিয়ম কানুন মেনে তারা বাহিরে চলে আসে।
বাহিরে এসে একটা ক্যাফেতে উঠে, তামিম তার মানিব্যাগ থেকে একটা কার্ড বের করে ড্রাইভার কে দেয়, এরপর ড্রাইভার চুপচাপ ড্রাইভিং করতে থাকে।
বর্ষা গাড়ির জানালা দিয়ে বাহিরের দিকে চেয়ে আছে, বর্ষা হয়তো প্রথম আমেরিকায় আসলো, তামিম একনজরে মোবাইল টিপাটিপি করতেছে, তা দেখে বর্ষার খুব রাগ উঠতে লাগলো, হঠাৎ একটা বড় দালানের সামনে ক্যাফেটা থামলো, বর্ষা দালানের সামনের সাইনবোর্ডের দিকে তাকিয়ে অবাক হয়ে গেলো, কারণ সাইনবোর্ডে লিখা " Tamim Chiness Food House " ।
" এটা কি আপনার "
বর্ষা অবাক হয়ে তামিমকে জিজ্ঞাসা করলো,
বর্ষার কথা শুনে তামিম দাড়িয়ে গেলো,
- কি হলো দাড়িয়ে গেলেন কেনো,
এটাতো আমারই কিন্তু উনাকে জানতে দেওয়া যাবে নাহ, কিছু একটা ভাবতে হবে,
- নাহ, এটা আমার হতে যাবে কেনো, আমি কি ওত বড় বিজন্যাসমেন নাকি যে আমেরিকায় আমার Food House থাকবে, ( তাচ্ছিল্যের সুরে)
- ওহ, কিন্তু আপনার না হলে আপনি এটা চিনেন কি করে,
- আমি ড্রাইভারকে যে কার্ডটা দিয়েছি ওইটাই লিখে দিছিলাম ভালো একটা হোটেলে নিয়ে যেতে,তাই হয়তো এখানে নিয়ে এসেছে,
- নাহ আমার কেনো জানি মনে হচ্ছে এটা আপনার,
- এত কথা নাহ বলে ভিতরে চলুন,রুম বুক করতে হবে,
- ওকে,
- আর শুনেন আপনি একটা কথাও বলবেন নাহ, যা বলার আমিই বলবো,
- ওকে,
তামিম ভিতরে ডুকতে যাবো ঠিক সে সময় সিকিউরিটি গার্ড দরজা টেনে দিয়ে স্যালুট দিতে যাবে তামিম চোখের ইশারায় নাহ করে দিলো, তামিম ক্যাশ কাউন্টারে গিয়ে দুইটা রুমের কার্ড নিলো।
- এই নিন এখন রুমে গিয়ে সোজা ফ্রেশ হয়ে নিন,
( একটা রুমের কার্ড বর্ষাকে দিয়ে)
- ওকে, এটা কত তলার কত নাম্বার রুমের চাবি,
- এটা ২৭তলার ২১ নং রুমের, দেখতেছেন নাহ ২৭২১ লিখা আছে,
- কিহ ২৭ তলা, আমরা কিভাবে উঠবো এত উপরে,
- ওই যে সামনে লিফট দেখছেন ওইটা দিয়েই উপরে উঠবেন, যান আমি সিড়ি দিয়েই যাচ্ছি,
- কিহ আপনি সিড়ি দিয়েই উঠবেন,
অবাক হয়ে বললো,
- আমার রুম দোতলায়, তাই হেটেই যেতো পারবো বুঝলেন,
- ওকে,
- ওকে এত কথা নাহ বলে যান গিয়ে,
তামিম আর কিছু নাহ বলে সিড়ি বেয়ে উপরে উঠে গেলো, হোটেলটা তামিমের নিজস্ব হোটেল, হোটেলটা ৩৫ তলা, বর্ষাকে ২৭ তলায় রুমের চাবি দিলাম কারণ এখানে অনেক বিপদের আশংকা আছে ওর জন্য, কি আশংকা আছে সেটা আস্তে আস্তে জানতে পারবেন।
.
.
.
তামিম রুমে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে শুয়ে পড়লো, তামিমের মনে হলো তার বিছানাটা কাপতেছে, তামিম খেয়াল করলো তার মোবাইল কাপতেছে, তামিম মোবাইল হাতে নিয়ে দেখে কল আসছে, তামিম কলটা রিসিভ করলো,
- হ্যালো,
- হুম কোনো খোজ খবর নাই কেনো আপনার,
- আরে ব্যাস্ত ছিলাম,
- ওকে, রিবা মামুনির সাথে কথা বলেন,
- হুম দাও,
- পাপ্পা থুমি তেমন আতো? ( ভালোভাবে কথা বলতে পারে নাহ)
- ভালো আছি, আমার মাম্মাটা কেমন আছে,
- ভালো পাপ্পা, থুমি পতা, তোমার সাথে কথা নাই,
- মাম্মা কি খুব রাগ করেছে,
- হুম থুব লাগ করেছি,
- আচ্ছা পাপ্পা আসার সময় মাম্মার জন্য অনেক গুলো চকলেট আনবে, তোমার আম্মুকে দাও,
- হুম বলেন,
- সাইমা আব্বু কি কোথাও বাহির হয়ছে,
- নাহ তো বাড়িতেই আছে, আব্বুকে দিবো,
- হুম দাও, আমার কিছু জরুরী কথা আছে,
.
.
.
- আব্বু আসসালামু আলাইকুম,
- ওআলাইকুম আচ্ছালাম, কেমন আছিস বাবা?
- হুম আব্বু আমি ভালো, আমার কিছু জরুরী কথা আছে আব্বু,
- কি কথা বলো তামিম,
- আব্বু তুমি কালকের মিটিংয়ে যাবা নাহ,
- কেনো যাবো নাহ, তুমি কি কোনো কিছু আন্দাজ করতে পেরেছো,
- আব্বু তুমি ওইখানে গেলেই তোমার উপর হামলা করবে,
- কিন্তু তুমি এখন কোথায় বাবা,
- আব্বু আমি এখন আমেরিকায়, দু'দিনের মধ্যেয় ফিরে আসবো,
- তোকে কতবার বলেছি, আমার মন্ত্রীর চেয়ারে তোকে বসতে আর না হলে " Saima Industry " এর চেয়ারে বসতে, কিন্তু তুই শুধু তোর গোয়েন্দাগিরি নিয়েই পরে থাকিস,
- বাবা তুমি তো জানো আমার এইসব মন্ত্রী পদ লাগে নাহ, মন্ত্রীত্ব ছাড়ায় আমি চলতে পারি,
- হুম তা ঠিক,
- আচ্ছা বাবা কাল তাইলে তুমি মিটিংয়ে যাবা নাহ, আর গেলেও বুলেট প্রুফ জ্যাকেট গায়ে দিবা, সাথে আমি কিছু বড়িগার্ড পাঠিয়ে দিবো, তার তোমার সাথে মিটিংয়ে যাবে,
- কেনো আমার বডিগার্ড কি হয়েছে,
- বাবা তোমার বডিগার্ড সবাই বিক্রি হয়ে গেছে,আচ্ছা বাবা তুমি একটু বামে ঘুরে তোমার খাটের কোনায় দেখো একটা ক্যামেরা ফিট করা,
তামিমের আব্বু তাড়াতাড়ি ওইদিকে গিয়ে চেক করে নিলো, কিন্তু খাটের কোণায় যেতেই অবাক হয়ে গেলো,
- তুই কি করে জানলি ওই খানে ক্যামেরা আছে, এইবার তোমার টেবিলের নিচে দেখো একটা সাউন্ড সিস্টেম ক্যামেরা যেইটা দিয়ে আওয়াজ সহ রেকর্ড করা যায়, এইবার শুনো, বাবা আমার একটা প্ল্যান আছে,
- কি??
- শুনো, বাবাকে প্ল্যানটা বুঝিয়ে দিলাম, তাহলে বাবা এখন রাখি।
.
.
.
সকালবেলা তামিম ফ্রেশ হয়ে বর্ষাকে ডাকতে লিফট বেয়ে ২৭ তলায় চলে এলো, রুমের সামনে যেতেই দেখতে পেলো দরজা খোলা কিন্তু ভিতরে কেউ নাই,
" যেটা সন্দেহ করেছিলাম ঠিক সেটাই হয়েছে ", তামিম মনে মনে ভাবতেছে,
তামিম ফোনটা নিয়ে বর্ষাকে কল দিলো, রিং পড়তেছে কিন্তু রিসিভ করছে নাহ কেউ, তামিম তাড়াতাড়ি লিফট করে তার রুমে এসে বর্ষার ফোনটা ট্র্যাক করতে লাগলো,
বর্ষার ফোনের লোকেশন " Death Valley national park " এ শো করতেছে, তামিম তাড়াতাড়ি হোটেল থেকে তার গাড়ি নিয়ে স্টার্ট দিয়ে পার্কের দিকে যেতে লাগলো।
.
.
.
পার্কে পৌছতেই তামিম দেখতে পেলো বর্ষা তাদের সাথে বসে কফি খাচ্ছে৷ সাথে চায়নেজ খাবারে খাচ্ছে, কিন্তু ও তো চায়নেজ খাবার খায নাহ, তাহলে বর্ষাও জড়িত আছে শহরে হওয়া খুন গুলোর সাথে, বর্ষা কি এদেরকে আগে থেকেই চিনে, চিনলেও কিভাবে, তামিম লুকিয়ে লুকিয়ে ওদের পিছনের দিকে যেতে লাগলো, পিছনে গিয়ে তামিম শুনতে পেলো,
||
||
Continue Loading
(আগামী পর্বেই গল্পটা শেষ করে দিবো, আর গল্পটা কার কেমন লাগলো তা বলতে একদম ভুলবেন নাহ যেনো।)
0 Comments