
#মি.ক্ষ্যাত
#লেখক_মুনতাসির_হাসান_তামিম
#পর্ব_৪
তামিম রুমে এসে ফ্রেশ হয়ে তার লাগেজে থাকা ৯এমএম পিস্তলটা কোমরে গুজে নিলো, এরপর মিজুকে কল দিলো,
- মিজু তোমরা রেডি তো?
-জ্বী স্যার আমরা রেডি, আপনি কোথায়?
- On the way, তোমরা ওইখানে দাড়াও আমি আসতেছি,
- ওকে স্যার,
এরপর তামিম বেরিয়ে চলে আসলো, আসার পথে লিমাকে দেখতে পেলো তামিম,
তামিম হেটে মিজুদের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিলো,
---
- সাইমন ওই তামিমরে কিন্তু আজকেই মজা দেখাতে হবে ,
- হুম রিয়াদ তুই একদম ঠিক বলছিস, আজকে ওর একটা হেস্তন্যাস্ত করতে হবে,
- আমি পোলাপানদের ওর পিছনে লাগিয়েছি,
হঠাৎ সাইমনের মোবাইলে কে যেনো কল দিলো,
- হুম বল,
- বস ওই ক্ষ্যাতটা বাসা থেকে বেরিয়ে ভার্সিটির দিকে যাচ্ছে,
- কি বলছিস, তুই ওরে ফলো কর আমরা এখনি আসতেছি,
- কি হয়েছে রে সাইমন, আর কারে ফলো করতে বলতেছিস,
- আরে রিয়াদ শিকার নিজেই ধরা দিচ্ছে, ওই ক্ষ্যাতটা একাএকা ভার্সিটির দিকে যাচ্ছে,
- কি বলিস, এই সুযোগে আমাদের আসল চেহারাটা দেখাতে হবে,
- হুম চল,
এরপর সাইমন আর রিয়াদসহ তাদের দলের ছেলেদের নিয়ে ভার্সিটির দিকে যেতে লাগলো।
----
তামিম মিজুকে আবার কল দিলো,
- হ্যালো স্যার বলুন,
- মিজু আমাকে কেউ একজন ফলো করতেছে,
- কি বলছেন স্যার,
- আচ্ছা যেটা বলছি সেটা শুনো, আমি এইখানে ভার্সিটির সামনে একটা রেস্টুরেন্ট আছে আর রেস্টুরেন্টের উত্তর পাশেই একটা পার্ক আছে আমি ওইখানে যাচ্ছি, তোমরাও ওইখানে চলে আসো, আর আমি যখনি বলবো তখনি সবাইকে শুট করে দিবে,
- ওকে স্যার আমরা এখনি আসতেছি,
তামিম সোজা ভার্সিটির পাশের পার্কে চলে গেলো,
তামিম আনমনে মোবািল টিপতেছে, হঠাৎ তামিমের মাথায় কে যেনো ভারি দিলো, এরপর তামিমকে পার্কেই একটা গাছে বেধে রাখলো,
এরপর তামিমের মুখে পানি মারলে তামিমের হুশ ফিরে আসে, তামিম হুশ ফিরে আসলে তামিম তার সামনে সাইমন, রিয়াদের সবাইকে দেখতে পাই,তামিম তাদের দেখে হাসতে লাগলো,
তামিমকে হাসতে দেখে সবাই অবাক হয়ে গেলো। এরপর তামিম কাউন্ট করতে লাগলো, এক, সবাই অবাক হয়ে তামিমের দিকে তাকিয়ে রইলো, দুই, তিন,
কাউন্ট শেষ করার সাথে সাথেই ৬ গুলির আওয়াজ হল আর ছয়টা লাশ পড়ে গেলো পার্কের মাটিতে।
----
সকালবেলা
তামিম ফ্রেশ হয়ে নাস্তা করে নিলো, মি.আনোয়ার সাহেব ও নাস্তা করে নিলো,
- স্যার আপনি কি আপনার ছেলের খুনী কে তা জানতে চান?
- হুম জানতে চাই এবং তার অনেক কঠিন থেকে কঠিন শাস্তির ব্যবস্থা করবো,
- ওকে,
- মি. জাবেদ আপনি কি কিছু বলবেন নাকি আমি বলবো?? আচ্ছা আমিই বলতেছি,
মি.আনোয়ার সাহেব, আপনি যাদের আপনার আপন মনে করেন তারা আসলে আপন নাহ, আপন নামের পর, তারা আপনার সামনে ভালো সাজে আর পিছনে পিছনে বাশ দেই,
- মি. তামিম তুমি কিন্তু লিমিট ক্রস করে যাচ্ছো,
-Wait Mr.Jabed Cool down!, এখন যদি এত চিল্লাচিল্লি করেন তাহলে আমি বলবো কিভাবে কে খুন করেছে আর কেনোই বা করেছে?? আচ্ছা মি.আনোয়ার সাহেব শুনুন, আপনার এই বিশাল সাম্রাজ্যের একমাত্র মালিক হবে আপনার ছোট ছেলে, আর আপনার ছোট ভাই তা মেনে নিতে পারে নি, কারণ সে চাই নাহ তার মত৷ তার ছেলেরাও আপনার ছেলের গোলামি করুক, তাই তারা সিদ্ধান্ত নেই আপনার ছেলে ঘুমানোর আগে ড্রিংক করে, আর তারা সেই ড্রিংকে বিষাক্ত ক্যামিক্যালটা মিশিয়ে দেই, যার কারণে এর আগেও চারটা খুন হয়েছে, কিন্তু ভাগ্যক্রমে ওদিন রাতে সে ড্রিংক করে নাই,
- তাহলে খুনটা করলো কে?
- এইবার আসি মিস বর্ষা ওরফে মিসেস চৌধুরী, আপনি কিছু বলুন, মি.আনোয়ার সাহেব আপনি যাকে আপনার ছোট ছেলে মনে করেন আসলে সে আপনার ওরশজাত সন্তান নই, সে সন্তানটা আপনার স্ত্রীর এক বন্ধুর সন্তান, সেটা আপনার ছোট ছেলে জানতে পারে, আর আপনার ছোট ছেলে সবাইকে বলে দেবে এই ভেবে মিসেস চৌধুরী তার ছেলে আশিসকে খুন করার পরিকল্পনা করে, দুয়েকবার খুন করতে চেয়েছিলো, কিন্তু সফল হয়নি,
- আসলে কে এই খুনি তা তুমি খুলে বলবে, এত প্যাসে ফেলার কি আছে?
- Cool Mrs.Lima,
এইবার আসি মিস.লিমা আপনি তো আপনার ভাইকে প্রচন্ড ভালোবাসেন তবুও কেনো খুন করতে চেয়েছিলেন, আমার কথা শুনে আবারো সবাই অবাক হয়ে গেলো,
আচ্ছা মি.আনোয়ার সাহেব শুনেন,
কিছুদিন আগে রাইমা নামে একটা মেয়েকে ধর্ষণ করে, আর রাইমা লিমার বান্ধুবি ছিলো, লিমা তার প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য প্রতিনিয়ত তার একমাত্র ভাইকে খুন করার পরিকল্পনা করে, কিছুদিন আগে আপনারা সবাই একটা ট্যুরে গেছিলেন, কিন্তু লিমা আর আশিস যায় নি, ওইদিন রাতে আপনার ছোট ছেলে আর তার বন্ধুরা মিলে এইখানে পার্টি করে, আশিসের বন্ধুরা সবাই মিলে লিমাকে খারাপ নজরে দেখতেছিল, লিমার ভাই মানে আশিস তা বুঝতে পেরে সবাইকে লিমার প্রতি আরো লোভাতুর দৃষ্টিতে তাকানোর সুযোগ করে দেয়।
আমি জানি একটা মেয়ের কাছে এটা কতটা লজ্জা এবং সম্মানের বিষয়, লিমা তা সহ্য করতে না পেরে ওইদিন বাড়ি থেকে সোজা বেরিয়ে রাইমার বাড়ি চলে যায়, এরপরের দিনই আশিস রাইমাকে ধর্ষণ করে।
রাইমার ধর্ষণের প্রতিবাদ করতে রাইমার বড় ভাই আর লিমা আশিস কে মেরে ফেলার পরিকল্পনা করে। কিন্তু তার আগেই আশিস কে মেরে দেয়। ফলে লিমার পরিকল্পনাও ব্যার্থ হয়।
মি.আনোয়ার সাহেব আপনাকে একটা কথা বলি, এখানে দোষ আপনার ছোট ছেলের, আপনার ছোট ছেলে অনেক খারাপ কাজ আর নিচুতম কাজ করেছে।
- কিন্তু আপনি এইসব কিভাবে জানেন, রাইমাকে ধর্ষণের কথা আর ভাইয়া তার বন্ধুদের দিয়ে আমাকে টিজ করার কথা কিভাবে জানেন, আমরা তো আপনাকে এইসব কিছু বলি নি।
- মিস. লিমা আপনি হয়তো ভুলে যাচ্ছেন আমি কে? আমি প্রথমে থানা থেকে রিপোর্ট গুলো আনার পর এই বাড়ির কাজের লোকদের সাথে কথা বলি, কেননা প্রত্যেকটা বাড়ির কিছু সিক্রেট ক্যামেরা থাকে সেগুলো হচ্ছে বাড়ির কাজের লোক, পরিবারের সদস্যরা যা জানে তার চেয়ে দ্বিগুণ জানে ওই পরিবারের কাজের লোকেরা।
- তামিম এখন বলো কে খুন করেছে আমার ছেলেকে?
- আপনার ছেলেকে আপনার স্ত্রী মিসেস বর্ষা আর তার বন্ধু মানে আশিসের বাবা খুন করেছে।
- কিহ তোমার এতবড় সাহস, তুমি আমার ছেলেকে খুন করেছো,
- Wait Mr.Anowar এত চিল্লাচিল্লি করতেছেন কেনো? আর মিস.লিমা আপনি আমার সাথে লন্ডনে যাবেন৷
- আমি কেনো আপনার সাথে লন্ডনে যাবো,
- আপনি নিজেই ভেবে নিন,
- ওহ আচ্ছা আগে হয়ে যাওয়া খুন গুলোর জন্য, (Brilliant মনে মনে)
- ধরে নিতে পারেন,
- তাই বলে আমাকে,
- আমি আপনাকে ২০ মিনিট সময় তার মধ্যে রেডি হয়ে আমার সামনে আসুন,
- আমার ২০ মিনিটে হবে নাহ, ৩০ মিনিট লাগবে,(Smart)
- কোনো ৩০ মিনিট নই ২০ মিনিটেই তুমি এখানে রেডি হয়ে আসবে,
- মি.আনোয়ার আমার জন্য ২০ লাখ টাকা আর দুইটা টিকেট কেটে রাখুন, কাল সকালের ফ্লাইটেই আমরা আমেরিকা যাবো।
(তামিম আমেরিকায় কেনো যাচ্ছে? আর পরবর্তীতে কি হতে চলেছে কারো ধারণা আছে কি? কারো ধারণা থাকলে বলতে পারেন?)
.
.
.
.
চলবে
0 Comments