
#মি.ক্ষ্যাত
#লেখক_মুনতাসির_হাসান_তামিম
#পর্ব_৩
ভার্সিটিতে ডুকতেই তামিমের মাথা গরম হয়ে গেলো, কারণ কালকের ছেলেগুলো কয়েকটা মেয়েকে টিজ করতেছে, আপত্তিকর জায়গায় হাত দিচ্ছে,
তামিম প্রথমে তাদের কাছে যেতে গিয়েও আবার কি যেনো ভেবে পিছনে চলে এলো, এরপর সোজা প্রিন্সিপালের রুমে চলে গেলো,
- আসতে পারি স্যার?
- হ্যা আসো,কোনো সমস্যা,
- স্যার আমি একটা কথা বলতে চেয়েছিলাম,
- হুম বল কি কথা??
- আগে বাহিরে ক্যাম্পাসে চলুন তারপর বলতেছি,
- ক্যাম্পাসে কেনো?
- স্যার আসলে সমস্যাটা ক্যাম্পাসেই হচ্ছে, তাই যদি আপনি ক্যাম্পাসে আসেন তো ভালো হবে,
- ওকে চলো,
এরপর প্রিন্সিপাল সহ আমি ক্যাম্পাসে আসলাম।
- স্যার ওরা মেয়েটাকে টিজ করতেছে আপনি কিছু বলছেন নাহ কেনো, ( আমি ছেলেগুলোকে দেখিয়ে দিয়ে বললাম)
- দাড়াও আমি দেখছি,
- জ্বী স্যার, ওদেরকে এখনি কলেজ থেকে বাহির করে দেন,
- কলেজ থেকে বাহির করবো নাহ করবো সেটা আমার ব্যাপার, তুমি ক্লাসে যাও,
- জ্বী স্যার,
এরপর আমি ক্লাসে না গিয়ে ক্লাসের কাছে এসে দাড়িয়ে রইলাম, আর স্যার কি করতেছে তা দেখতে লাগলাম,
- এইখানে এইসব কি হচ্ছে সাইমন, (প্রিন্সিপাল স্যার তাদের লিডারকে বললো)
- আরে স্যার আপনি তো জানেন এটা আমাদের রোজকার কাজ,
- হুম তা তো জানি তাই বলে ক্লাস নাহ করে,
- তো জানা সত্ত্বেও বাধা দিতে আসছেন, আপনিতো জানেন আমাদের কাজে যারা বাধা দেই তাদের আমি শেষ করে দেই, তবুও আপনি বাধা দিতে আসছেন কোন সাহসে,
- আসলে একজন অভিযোগ করছে তোমাদের নামে তাই আসলাম, না হলে তোমাদের কাজে বাধা দেওয়ার কোনো মানে হয়,
- কে আমাদের নামে অভিযোগ করছে তার নাম টা বলুন একবার, (পিছন থেকে রিয়াদ এগিয়ে এসে বললো)
- তার নাম তামিম , কাল নতুন ভর্তি হয়েছে,
- ও তার মানে ওই ক্ষ্যাতটা, তাকে আমরা পরে দেখে নিবো, আপনি এখন যান,
- ওকে আমি যাচ্ছি,
প্রিন্সিপাল স্যার আর কিছু নাহ বলে সোজা অফিসের দিকে যেতে লাগলো, আমিও পিছন পিছন প্রিন্সিপালের রুমের দিকে যেতে লাগলাম, আরেকটু দ্রুত হেটে প্রিন্সিপালের কাঁধে হাত রাখলাম, অফিসের চারপাশে থাকা সব স্টুডেন্ট সহ সকলে অবাক হয়ে গেলো আমার।এরকম আচরণে,
- তামিম এইটা কি হচ্ছে, আমি শিক্ষক,
- কিহ আপনি আমার শিক্ষক,
- হুম আমি তোমার শিক্ষক আর শিক্ষকের কাধে হাত রাখা কত বড় বেয়াদপি করছো তুমি জানো,
- আচ্ছা স্যার আপনি এখন আমাকে কি করবেন,
- তোমাকে আমি কলেজ থেকে বের করে দিবো,
- ওকে দেখি কে কাকে বের করতে পারে,
- স্যার এই নিন আপনার জন্য পার্সেল এসেছে, ( হঠাৎ পিয়ন স্যারকে একটা খাম ধরিয়ে দিয়ে বললো)
- কে পাঠিয়েছে?
- স্যার জানি নাহ, তবে যে দিতে এসেছে সে বলেছে এটা আপনাকে দিতে,
- স্যার কে দিছে তা দেখার দরকার নাই, আগে খামটা খুলে দেখুন কি আছে?
- ওকে,
প্রিন্সিপাল খামটা খুলতে লাগলো, খুলা শেষ হলে পড়তে লাগলো, কিছুদুর পড়ার পর একবার আমার দিকে তাকাচ্ছে আর আরেকবার লেটারের দিকে তাকাচ্ছে,
- তামিম কে তুমি, সত্যি করে বল?
- সেটা না হয়ে পরে জানবেন, আজ রাতের মধ্যে রিয়াদ আর সাইমনের গ্যাংয়ের লাশ পড়বে,
আজ আসি তাহলে স্যার,
প্রিন্সিপাল স্যারকে আর কোনো কথা বলার সুযোগ না দিয়ে চোখে সানগ্লাস লাগিয়ে বাম হাত পকেটে দিয়ে বেরিয়ে আসলাম,
- হ্যালো মিজু,
- জ্বী স্যার বলুন,
- আজ রাতে একটা মিশন আছে, তোমরা সবাই রেডি থাকো,
-জ্বী স্যার, কিন্তু কিসের মিশন,
- তোমরা রেডি থাকো কীসের মিশন এতকিছু জানতে হবে নাহ, রাতে বলবো,
- জ্বী স্যার,
এরপর তামিম কলটা কেটে দিলো।
---
ইন্সপেক্টর বিল্লাল শহরে হওয়া খুন গুলো নিয়ে ভীষণ চিন্তিত,"আচ্ছা তামিম স্যার তো অনেক দামী , কিন্তু তবুও মূখ্যমন্ত্রীর মত দুই টাকার মন্ত্রীর বাড়িতে তামিম স্যার কি করতেছে, তার চেয়ে বড় কথা, মূখ্যমন্ত্রী যে বললো তামিম স্যার কেসটা সলভ করবে, কিছুই তো বুঝতেছি নাহ "
- ইন্সপেক্টর বিল্লাল আপনি কি কিছু ভাবতেছেন?
" মনে মনে ইন্সপেক্টর বিল্লাল এইসব ভাবতেছে, হঠাৎ কারো ডাকার আওয়াজে তার ধ্যান ভাঙলো"
মাথা উপরে তুলতেই বিল্লাল অবাক হয়ে গেলো, কারণ তার সামনে স্বয়ং তামিম দাড়িয়ে আছে,
- স্যার আপনি হঠাৎ এইখানে?( স্যালুট মেরে বিল্লাল বললো)
- হুম আসতেই হলো,
- স্যার আমাকে ডাকলেই তো হত,
- আচ্ছা পোস্টমর্টেম রিপোর্ট গুলো দাও, দেরী হয়ে যাচ্ছে,
- জ্বী স্যার,
হাবিলদার রিপোর্ট গুলো আনো,
তামিম রিপোর্ট গুলো নিয়ে দেখতে লাগলো,
- মি.বিল্লাল আপনি কি আরো অনেক দামী কিছু আমাকে দিচ্ছেন নাহ হয়তো, কোনো সমস্যা নাই ওইটা ছাড়া আমি কেস সলভ করে নিবো,
" এইরে স্যার কিভাবে বুঝলো আমার কাছে আগের খুন হয়েছে ওই জায়গার একটা কাগজ আছে, ওইটাতো আমি হাবিলদারকেও বলি নাই " মনে মনে ভাবতেছে,
- নাহ মানে স্যার,
- আচ্ছা আজ তাহলে আমি মি.বিল্লাল, পরবর্তীতে দেখা হবে।
----
তামিম প্রমাণ আর রিপোর্ট গুলো বাসায় চলে আসলো,
- তামিম এতক্ষণ কই ছিলে?
তামিম বাসায় প্রবেশ করতেই মি.আনোয়ার সাহেব প্রশ্ন করে বসলো,
- স্যার একটা জরুরী কাজ ছিলো,
- কি এমন কাজ যা আমাকে বলে করতে পারো নাই,
- স্যার কাল সকালে আপনার ছেলের খুনী কে তার নাম বলে দিবো, আমার হাতে এই যে কাগজ গুলো দেখছেন তার মধ্য তার নামটা আছে,
- কে সেই খুনী আমি এখনি জানতে চাই,
- সরি স্যার আমার বিশ্রামের প্রয়োজন।
(মি.আনোয়ার সাহেবের ছেলের খুনী কে? আর ভার্সিটির প্রিন্সিপালকে কিসের লেটার দিয়েছিলো? কে এই তামিম যাকে ইন্সপেক্টর বিল্লাল এত সম্মান করে?)
.
.
.
.
চলবে
0 Comments