" মিস্টার, আপনার কি এই বিয়েতে মত নাই?" অনেক জোরাজুরির করার বাবা মায়ের কথা রাখতে চলে আসলাম পাত্রী দেখতে, তো পাত্রীর বাড়িতে পৌছে সবাই কথা বলতে লাগলো, মায়ের কাছ থেকে জানতে পারলাম পাত্রীর মা নাকি আম্মুর স্কুল বান্ধুবী, উনারা উনাদের মত কথা বলতে লাগলো, আর আমি মাথা নিচু করে রইলাম, একটা নীল শাড়ী পড়া মেয়ে এসে সবাইকে চা তুলে দিয়ে আমি সোজাসুজি বসলো, মেয়েটা বসতেই আম্মুর বান্ধুবী আমাদেরকে একান্ত কথা বলতে পাঠিয়ে দিল। অনিচ্ছা মেয়েটার পিছনে আমি গেলাম, মেয়েটা মেয়েটার রুমে ডুকতে বলে নিজে একটা দুইটা চেয়ার নিয়ে বেলকনির সামনে গেলো, বেলকনির সামনে চেয়ার দু'টো রেখে একটাতে নিজে বসলো আর আরেকটাতে আমাকে বসতে ইশারা করলো।

দুইজনে সামনাসামনি বসে আছি, দু'জনেই চুপচাপ বসে আছি, কারো মুখে কোনো কথা নাই। দশ মিনিট যায় বিশ মিনিয়ট যায় কারো মুখে কোনো কথা নাই, মেয়েটা বললো, " আপনি মেয়ে দেখতে আসছেন নাকি এভাবে চুপচাপ বসে থাকতে আসছেন? সে আসার পর থেকেই মাথা নিচু করেই বসে আছেন। " মেয়েটার কথাই মনে হলো, আমার এরকম চুপ থাকাতে সে খুব বিরক্তি বোধ করছে, তাই আমি বললাম, - আসলে ব্যাপারটা হলো যে আমার এখন বিয়ে করার কোনো ইচ্ছে নেই, মাথাটা তুলতেই আমি অবাক হয়ে যায়, কারণ মেয়েটা আমার অনেক জুনিয়র, আর মা এত পিচ্চি একটা মেয়েকে আমার জন্য পছন্দ করলো, দেখতে অসুন্দর এমন কিন্তু নাহ, একটা মেয়েকে যতটা সুন্দর হওয়া দরকার তার পুরোটাই ওর মধ্যে আছে, এখন হয়তো আরো সুন্দর লাগছে, সেজেছে তাই হয়তো, কাজল কালো চোখ গুলো যেনো মায়ায় ভরা, যে কেউ প্রথম বার দেখেই প্রেমে পড়ে যাবে, " এই যে আপনি আবারো কি ভাবছেন বলেন তো? আপনার জিএফ এর কথা ভাবছেন নাকি? " মেয়েটার কথায় আমার ধ্যান ভাঙলো, - আচ্ছা তোমার নাম কি? - কেনো নিচে শুনেন নি, অবশ্য শুনবেন কিভাবে? আপনার কি ওদিকে খেয়াল আছে, - হুম, যেটা বলছি সেটার উত্তর দাও, - আমি রুহি, আলিয়া নুর রুহি, - হুম বুঝলাম, - আর কিছু জিজ্ঞাসা করবেন? আমি একটু ভাবার পর আবারো বললাম, - হুম, বিয়ে কি আপনার নিজ ইচ্ছায় করতে চাচ্ছেন?নাকি বাবা মা প্রেশার ক্রিয়েট করে অথবা ব্রেকমেইল করে বিয়ে দিতে চাচ্ছে?কোনটা? - কোনোটাই নাহ, - কিন্তু আমার এ বিয়েতে কোনো মত নেই, - কেনো জানতে পারি? - হ্যা, আমি সবে মেডিকেল ২য় বর্ষে উঠেছি, মায়ের থেকে যতটুকু জানতে পারলাম তুমি এবারের ইন্টার পরীক্ষার্থী, আমার তোমাকে বিয়ে করতে আপত্তি নেই কিন্তু এত তাড়াতাড়ি আমি বিয়ে করতে চাচ্ছি নাহ, - আচ্ছা, সমস্যা নেই নিচে চলুন, দুইজনে নিচে চলে আসলাম, আমি এসে বসে পড়লাম, রুহি এসে আমার সামনেই বসলো, তখনি মা জিজ্ঞাসা করলো, তার বিয়েতে কোনো আপত্তি আছে কিনা? মায়ের জবাবে সে নাহ বলে দিলো। এটার কি হলো, রাজি হয়ে গেলো, তামিম তোর খারাপ দিন শুরু হতে চলেছে। আমি মনমরা হয়ে বসে রইলাম আর বাকি সবাই আমার দিকে তাকিয়ে হাসতে লাগলো, আর মা বলতে লাগলো, " তামিম তুই এত বোকা আজকেই জানতে পারলাম, আসলে আমরা এসেছি আমার বান্ধুবীর আজকে এ্যানিবার্সারি, তাই ও আমাদের দিছে যার জন্য এখানে আসা। " আমি রাগে আর বোকা হয়ে রুহির দিকে তাকালাম আর বললাম," আগামী সপ্তাহেই আমি রুহিকে বিয়ে করতে চাই, আমি এত কিছু বুঝি নাহ"। সবাই আমার কথা শুনে অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলো, আর আমি ভাব নিয়ে বাহিরে চলে আসলাম, আমাকে বোকা বানানো, এবার আমি সত্যি সত্যিই বিয়ে করতে চাই, এবার মজা বুঝো সবাই। 

    গাধা 
        মুনতাসির হাছান তামিম