#মি.ক্ষ্যাত #মুনতাসির_হাছান_তামিম #পর্ব_৬(শেষ পর্ব) তামিম ওদের ডেরার পিছন দিকে গিয়ে দেওয়াল টপকে তাদের বাসার পিছনের দিকে দাড়ালো, যাতে করে কেউ তামিমকে দেখতে নাহ পায়, তামিম একটু এগিয়ে এসে জানালা দিয়ে ভিতরে উঁকি মেরে তাদের কথা শুনার চেষ্টা করে, " তোরা এইখানে কবে আসলি, তোরা এইখানে আমাকে একবারো বললি নাহ তো? " হঠাৎ করেই বর্ষা বলে উঠলো, - কিন্তু তুই এখানে কি করে? - আমাকে তো তামিম নিয়ে এসেছে, - কোন তামিম, - একজন গোয়েন্দা, - তামিম কোনো গোয়েন্দা নাহ, তামিম হলো মি.ক্ষ্যাত নাম পরিচিত সবার কাছে, দেশে আইনমন্ত্রী, বেশিরভাগ সময় এই দেশেই থাকে, এইখানে তোরা যে হোটেলে উঠেছিস সেটাও তামিমের, তামিমের বাবা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আর তার বউ হলো যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী, পিছন থেকেই একজন বলে উঠলো, - কি বলিস, ও এতবড় একজন মানুষ আর আমি তাকেই চিনতে পারলাম নাহ, বর্ষা চায়ের কাপে চুমুক দিতে দিতে বললো, - তামিম মুলত এখানে এসেছে আমাদের ধরতে, - তোদের ধরতে মানে, - আরে তুই জানিস নাহ, গতবছর আমাদের ব্যাচের কয়েকজন মিলে একটা প্রজেক্ট শুরু করেছিলাম, কিন্তু যাদের কাছে প্রজেক্ট ফাইল গুলে ছিলো তারা সবাই আমাদের সাথে বেঈমানি করেছে তাই আমরা তাদেরকে মেরে ফেলি, - তাই বলে মেরে ফেলবি, - হুম তো কি করবো, ওই প্রজেক্ট ফাইল একবার পুলিশের হাতে লাগলে আমাদেরকে ক্রসফায়ারের পারমিশন আছে, - তাই বলে ওদেরকে মেরে ফেলবি, ওরাও তো তোদের সাথে প্রজেক্টটাতে শামিল ছিল, - হুম, কিন্তু ওরা সেটা অস্বীকার করতে চেয়েছিলো, - আচ্ছা ওই প্রজেক্ট ফাইলটা এখন কোথায়?, - প্রজেক্ট ফাইলটা পুড়িয়ে ফেলছি, - ওও, তো দেশে ফিরবি নাহ, - নাহ, দেশে ফিরলেই আমাদেরকে ক্রসফায়ার দিবে, - কিন্তু এইখানে কি কিছু হবে নাহ, এইখানে তো তামিম আসছে, যদি তামিম তোদেরকে ধরে ফেলে, - ধরে ফেললেই আরেকটা খুন করবো, - হাসাইলি তোরা, ওকে তোরা মারতে পারবি নাহ, আচ্ছা একটা কথা তুই জানলি কি করে তামিমের পরিবার সম্বন্ধে, - কারণ তামিমের বাবার বডিগার্ডের ওইখানে আমাদের লোক রয়েছে তাই আমরা খবরাখবর সব পেয়ে যায়, - ওও, আচ্চা এখন আমাকে যেতে হবে - ওকে সাবধানে যাস, বর্ষা বেরিয়ে গেলো, আর সামনে থাকা ক্যাফেতে করে সে চলে গেলো। . . . তামিম এতক্ষণ তাদের কথা শুনছিলো,তার মানে এরাই খুন করেছে, আর আমার বাবার উপর হামলা করার প্ল্যানটাও এদের,এদের কে ধরতে হবে। তামিম একটু সাইটে এসে পিস্তল টা লোড করে নিলো, এরপর আস্তে আস্তে ওদের রুমে ডুকলো,তামিমকে দেখা মাত্রই সবাই দাড়িয়ে গেলো, - আপনি এইখানে কেনো, তাদের মধ্য একজন বলে উঠলো, - তোদের ধরতে আসলাম, - কিন্তু আপনি আমাদেরকে ধরবেন নাকি আপনার বাবাকে বাঁচাবেন, - আমার বাবাকে নিয়ে তোদের ভাবতে হবে নাহ, আমি সিকিউরিটি দিয়ে আসছি আমার আব্বুকে, আমার কথা শুনে সবাই অট্টহাসি দিতে লাগলো, তারমানে কোনো একটা গন্ডগোল নিশ্চয় হয়ছে, - একটা কল দিয়ে দেখেন, তামিম পকেট থেকে ফোন বের করে কল দিতে লাগলো, তার বাবার ফোন কল দিলো কিন্তু ফোন সুইচ অফ বলতেছে, তামিম তাড়াতাড়ি সাইমার নাম্বারে কল দিলো, একবার কল হতেই রিসিভ করলো, - সাইমা আব্বু কোথায়, - পাপ্পা দাদু বালিলে গেতে, - মাম্মা তোমার আম্মু কই, - আম্মু কাত করে, - মাম্মা মোবাইলটা আম্মু কে দাও, - আত্তা পাপ্পা, একটু পর, - হুম বলেন, - আব্বু কবে বাহির হয়ছে, - এইতো একটু আগে, কেনো কি হয়েছে, - আব্বু একা গেছে, নাকি বডিগার্ড নিয়ে গেছে, - আব্বু একা বের হয়ছে, - Oh shit, তুমি যেতে দিলে কেনো, - কি হয়েছে আপনার গলা এমন লাগছে কেনো, - কিছু নাহ ফোন রাখো, পরে কথা বলছি, তামিম ফোন কেটে দিয়ে ওদের দিকে তাকায়, ওরা সবাই হাসতেছে, - আমার বাবা কোথায়? তামিম ওদের একজনের কলার ধরে বললো, - আমরা কিডন্যাপ করিয়েছি, আর যদি আপনি আমাদের কিছু নাহ করেন তাহলে আমিও আপনার আব্বুকে ছেড়ে দিবো, - তোদের কি আমি ধরে রেখেছি নাকি, - তাহলে আপনি এইখান থেকে চলে যান, - ওকে চলে যাচ্ছি, . . . তামিম বাইরে এসে সোজা বিল্লাল কে কল দিলো, - আসসালামু আলাইকুম স্যার, - ইন্সপেক্টর বিল্লাল আমার আব্বু কোথায় চেক করে দেখেন এবং উনার সিকিউরিটির ব্যবস্থা করেন, - জ্বী স্যার আপনি যা বলবেন তাই হবে, - ওকে উনার খোঁজ খবর নিয়ে আমাকে জানাও, - অকে স্যার, . . . . - আমাদের এখান থেকে অতিশীঘ্রই পালাতে হবে না হলে তামিম আবার আসবে, - হুম তুই ঠিকই বলিস আমাদের এখান থেকে পালাতে হবে, - হুম জলদি ব্যাগ গুছিয়ে নেই, . . তামিমের ফোনে আবারো কল দিলো, - হ্যালো, - স্যার আপনার আব্বুকে পেয়ে গেছি, এখন উনি আমাদের হেফাজতেই আছেন, - অকে গুড জব, ইন্সপেক্টর বিল্লাল, - আসসালামু আলাইকুম স্যার, তামিম ফোনটা কেটে দিয়ে আবারো ওদের ডেরার দিকে যেতে লাগলো, তামিম ডেরা ভিতরে গিয়ে দেখে সবাই ব্যাগ গুছাচ্ছে, তামিমকে দেখে সবাই অবাক হয়ে গেলো, - কি আপনি আবার এসেছেন, - হুম তোদের কে নিয়ে যেতে এসেছি, - দেখি কিভাবে নিয়ে যান আমাদেরকে, এইবলে ওরা সবাই তামিমের দিকে বন্ধুক তাক করলো, তামিম স্যালেন্ডার করে মাটিতে বসে পড়লো, আর একটা শিষ বাজালো সাথে সাথেই সবার লাশ পড়ে গেলো, সামনে শুধু একজন বসে আছে, - স্যার আমাদের ভূল হয়ে গেছে, - ভূল তো তোরা অনেক আগেই করেছিস, আর সেই ভুলের একটা সাজা ক্রসফায়ার, - স্যার প্লীজ আমাকে মারবেন নাহ, স্যার প্লীজ, তামিম আর কোনো কথা নাহ শুনে সোজা তাকে মুট করে দিলো, আর তার লাশ পড়ে গেলো, - গার্ডস লাশগুলোর ব্যাবস্থা করো আমি যাচ্ছি, -Yes Sir, স্যালুট মেরে বললো, তামিম ওইখান থেকে সোজা গাড়ি নিয়ে হোটেলে চলে আসলো, আর সোজা গিয়ে বর্ষার রুমে নক করলো, বর্ষা দরজা খোলে দিলে তামিম সোজা গিয়ে রুমের বিছানায় বসে পড়লো, - হঠাৎ আপনি এইখানে, - কেনো আপনার রুমে আসা বারণ নাকি, - আপনার হোটেল, মানা থাকবে কেনো, - আচ্ছা ওদের সাথে আপনার কিসের সম্পর্ক, - কাদের সাথে, - নাহ বুঝার ভান করবেন নাহ একদম, নাহলে পিস্তল দেখছেন, মাথায় শুট করে দিবো, - তাহলে আপনি সব জানেন, - হুম আমি সব জানি, এত কথা নাহ বলে আমার প্রশ্নের উত্তর দেন, - ওরা আমার বন্ধু ছিলো, অনার্স শেষ করার পর ওদের সাথে আর দেখা হয় নাই, - তাহলে আপনি ওদের ডেরায় গেলেন কি করে, - সকালে নাস্তা করতে আমি নিচে নামছিলাম, এরপর নাস্তা করে একটু বাহির হয়েছিলাম, হঠাৎ একটা গাড়ি এসে আমার সামনে থামিয়ে আমাকে অজ্ঞান করে ওদের ডেরায় নিয়ে আসে, - ও আচ্ছা, ব্যাগ গুছিয়ে নেন, আমরা এখনি দেশে ফিরবো, - ওকে, . . . সন্ধ্যা ৭ টা বাজে তামিম বাংলাদেশের ল্যান্ড করলো, তামিম এয়ারপোর্ট থেকে বেরিয়ে ইন্সপেক্টর বিল্লাল কে কল দিয়ে এয়ারপোর্টে আসতে বললো, তামিম বাহিরে এসে দেখে বিল্লাল গাড়ি নিয়ে বাহিরে দাড়িয়ে আছে, বর্ষা এয়ারপোর্টের বাহিরে আসলো, - মিস. বর্ষা আপনি উনার সাথে চলে যান, - ওকে, " বিল্লাল মাঝপথে উনাকে ইনকাউন্টার করে দিবেন," কানে কানে বিল্লাল কে এসে বললো তামিম, তামিম গাড়ি নিয়ে বাসায় চলে আসলো। . . . . সকাল বেলা তামিম চা খেতে টিভি দেখতেছে, হটাৎ একটা নিউজ দেখে তামিম মুচকি হাসি দিতে লাগলো, নিউজটা হলো, " কাল রাতে আবারো আরেকটা খুন হয়েছে, তবে এইবার বাসায় সোজা রাস্তায় খুন হয়ে গেলো, খুনটা হয়েছে সেই আগের নিয়মে, কিন্তু খুন গুলো করলো কে, পুলিশ তদন্ত করে বললো লাশটা মূখ্যমন্ত্রীর মেয়ের " তামিম নিউজটা শুনে সোফা থেকে উঠে পিছনে হাত দিয়ে নিজের রুমে চলে আসলো। . . . . The End ভুলত্রুটি গুলো ক্ষমার চোখে দেখবেন আর গল্পটা কেমন হয়েছে অবশ্যই একটা কমেন্ট করে জানিয়ে দিবেন।। আর হে গল্পটা সম্পূর্ণ কাল্পনিক সো গল্পকে গল্প হিসেবে দেখবেন বাস্তবতায় নিবেন না।। গল্প ভালো না লাগলে ইগনোর করবেন তবুও কেউ খারাপ মন্তব্য করবেন না প্লিজ।। হেপি রিডিং 🙂 এটা আমার পারসোনাল গ্রুপ, সবাইকে গ্রুপে জয়েন হওয়ার অনুরোধ রইলো।। গ্রুপে জয়েন হয়ে আপনারা আপনাদের ফ্রেন্ডদেরকে ইনভাইট করে গ্রুপটা বড় করতে আমাদেরকে হেল্প করবেন প্লিজ।। আর গ্রুপে ১৮+ পোস্ট ছাড়া সব ধরণের পোস্ট করতে পারবেন।। চাইলে আমার গল্প নিয়েও আড্ডার পোস্ট করতে পারবেন।। গ্রুপ লিংক 👇👇 https://www.facebook.com/groups/343368773606739/ ~~ সবাই নিয়মিত নামায কায়েম করবেন আর অন্যদের নামাযের লাভ জানিয়ে দাওয়াত দিবেন প্লিজ ~~