#মি_ক্ষ্যাত #লেখক_মুনতাসির_হাসান_তামিম #সূচনা_পর্ব #পর্ব_১ " ওই আবুল এদিকে আয়? " কাধে স্কুল ব্যাগ ঝুলিয়ে ভার্সিটিতে প্রবেশ করলো তামিম, পড়নে তার একটা শার্ট এবং ঢিলেঢালা একটা প্যান্ট, আর পায়ে স্যান্ডেল, মাথার উশকো খুশকো চুলে তেল মাখানো, বলতে গেলে একদম ক্ষ্যাত টাইপের, যে কেউ দেখলেই আবুল বলবে, ভার্সিটি প্রবেশ করে কিছুদুর এগোতেই তামিম খেয়াল করলো গাছের নিচে কিছু ছেলেরা গোল করে বসে আছে, আর তাদের কয়েকজনের হাতে হকিস্টিক আর সিগারেট, বড় লোকের বিগড়ে যাওয়া সন্তান বললেই চলে। ছেলে গুলো থেকে দুরে দুরে থাকতে হবে সবসময়, কারণ তামিম এখানে কোনো সমস্যা করতে চাই নাহ, তাই তামিম তাদের এড়িয়ে যেতে চাইলেই তাদের একজন তামিমকে ডাকে, "ওই আবুল এদিক আয়? " তামিম তাদের কথায় কোনো সাড়া না দিয়ো ক্লাসের দিকে এগুতে লাগলো, - ওই আবুল, এইবারেও তামিমের কোন রেসপন্স না পেয়ে সোজা এসে তামিমের পথ আটকায় দুইটা ছেলে, - ভাইয়া পথ আটকাইছেন কেন? - তোকে কতবার ডাকলাম তুই আসলি নাহ কেন? - আমাকে ডাকছিলেন কই শুনি নি তো? ( খুব শান্ত ভাবে বললো তামিম) - তোকে আবুল বলে কইবার ডাকলাম আর তুই আসলি নাহ কেনো? - সরি ভাইয়া আমার নাম আবুল নাহ, আমার নিজস্ব একটা নাম আছে, - আমার মুখে মুখে তর্ক করছিস তুই, আজকে তোর একদিন কি আমার একদিন, তামিমকে টানতে টানতে তাদের বসের কাছে নিয়ে গেলো ছেলে দুইটা। ১ রোজকারের মত আজও খুন হয়েছে গুলশানের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী রায়হান চৌধুরীর একমাত্র পূত্র আর তার পূত্র বধূ একসাথেই মারা গেছে, কিন্তু কিভাবে মারা গেছে তারা কেউ জানেই নাহ, কারণ দরজা ভিতর থেকে লক ছিলো, আর জানালা সবকিছুই তো বন্ধ ছিলো, এর আগেও একই ভাবে চারজন মারা গেলো, এই নিয়ে ছয় জন মারা গেলো, আর তাদের খুন ৩ দিন পরপর হচ্ছে, একটা কেস solve করার আগেই খুন গুলো হচ্ছে, তা নিয়ে স্থানীয় থানার ওসি সহ সবাই অনেক টেনশনে আছে, উপর মহল কেসটা কড়া ভাবে ইন্ভেস্টিগেশন করার নির্দেশ দিলো। ইন্সপেক্টর বিল্লাল আহমেদ ডানহাত কোমরে গুজে বাম হাতে তার কর্মীদের এভিডেন্স খোঁজতে বলে নিজেও এদিক ওদিক তাকাতে লাগলো, কিন্তু কোনো প্রমাণও পেলো নাহ, ঘরের সবকিছু চেক করে লাশ দুটোর কাছে আসতেই বিল্লাল আরো থমকে গেলো কারণ লাশ দুটোর গায়ে কোনো আঘাতের চিহ্নই নাই। ইন্সপেক্টর বিল্লাল তার কর্মীদের কে নিয়ে সোজায় চলে আসলো আর সাথে লাশ গুলোকেও, লাশগুলোর পোস্টমটেম রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত কিছুই বলতে পারছে নাহ পুলিশ ইন্সপেক্টর বিল্লাল, লাশ গুলোর পোস্টমর্টেম রিপোর্ট দেখে ইন্সপেক্টর বিল্লাল ঘাবড়ে গেলো, কারণ তাদের মৃত্যু এক ধরণের বিষাক্ত ক্যামিকেলের কারণেই হয়েছে, ক্যামিক্যালটা পানীয় খাবারের সাথেই মিশিয়ে দেওয়া হয়েছিলো আর তা খেয়েই দুজনেই মারা যায়, কিন্তু একটা প্রশ্ন ইন্সপেক্টর বিল্লালে মাথায় ঘুরতেছে, " কে তাদের পানি বা পানীয় জাতীয় খাবারে বিষ মিশিয়ে ছিলো?" ---- " তুই দশবার কান ধরে উঠা বসা৷ করবি " তামিমকে তাদের বসের সামনে নিয়ে গেলে তাদের বস বললো, - ভাইয়া প্লীজ এইবারের মত ক্ষমা করে দেন, - যা বলছি তাই কর, না হলে কিন্তু কাপড় খুলে এদিক ওদিক দৌড়াতে দিবো তখন ভালো লাগবে, এরপর তামিম তাদের কথা মত কান ধরে উঠা বসা করতে লাগলো। ২ ভার্সিটির বাইরে দাড়িয়ে আছে ৪-৫ টা গাড়ি, গাড়ি গুলো সব তামিমের জন্যই অপেক্ষা করতেছে, কিন্তু তামিমের কোনো খোজখবর না পেয়ে তার গার্ড রা তামিমকে খুঁজতে ভার্সিটিতে ডুকলো, হঠাৎ তারা দেখতে পাই তামিমকে কিছু ছেলেরা মিলে কান ধরে উঠাবসা করতে দিছে। গার্ডসরা সবাই তামিমের দিকে এগিয়ে আসতে চাইলে তামিম তাদের দেখতে পেয়ে ইশারায় না করে দেই। গার্ডসরা সবাই ওইখানেই দাড়িয়ে পড়ে, আবার গাড়িতে।উঠে পড়ে, তামিমকে ছেড়ে দিলে তামিম প্রিন্সিপালের রুমের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেই, - আসতে পারি স্যার? প্রিন্সিপালর রুমের বাইরে দাড়িয়ে তামিম বললো, - হুম আসো, তোমার নাম? - আমার নাম তামিম, - ওহ তারমানে তোমার জন্যই মূখ্যমন্ত্রী সুপারিশ করলো, - হুম আমার জন্যই, - কিন্তু একটা জিনিস বুঝতেছি নাহ, তোমার মত একটা ক্ষ্যাত গাইয়ার জন্য মূখ্যমন্ত্রী কেনো সুপারিশ করবে, - জানি নাহ স্যার, আপনি এই পেপারে স্বাক্ষর করে দিলে আমি এখন যেতে পারি, - ওকে দাও। ----- লিমা ভার্সিটি থেকে বাড়িতে আসতেই অনেক আশ্চর্য হয়ে গেলো, কারণ আজ বাড়িটা অনেক সুন্দর করে সাজানো হয়েছে, কিন্তু কেনো এত আয়োজন তা লিমার অজানা, দেখে মনে হচ্ছে এখানে কোনো বিয়ে হবে, লিমা কাধ থেকে ব্যাগটা রেখে সোজা তার মায়ের কাছে চলে গেলো, - মা এসব কি হচ্ছে, - তুই কিসের কথা বলতেছিস, - বাড়ি এত সাজানোর মানে কি? হঠাৎ গাড়ির হর্ণের আওয়াজে লিমা জানালা দিয়ে বাহিরে উঁকি মারলো, লিমা খেয়াল করলো পাঁচটা গাড়ি একসাথে তাদের বাড়ির সামনে এসে দাড়ালো, আর পিছনের গাড়ি থেকে কিছু বডিগার্ড বের হয়ে সামনের গাড়িটা খুলে দিলো, আর তার থেকে সাদা কোর্ট, সাদা প্যান্ট আর গলায় টাই পড়া এবং কালো কেস পড়ে বেরিয়ে আসলো ২৫-২৬ বছরের এক যুবক, ছেলেটাকে যে মেয়ে একবার দেখবে সে মেয়ে নিশ্চিত প্রেমে পড়ে যাবে। লিমা এতক্ষণে বুঝতে পারলো, এতসব আয়োজন সব এই ছেলেটার জন্য, কিন্তু কে এই ছেলেটা। মি. আনোয়ার সাহেব ( দেশের মূখ্যমন্ত্রী) ছেলেটিকে গাড়ি থেকে বেরিয়ে আসতে দেখে এগিয়ে গেলো, - তাহলে তুমিই তামিম, - হুম স্যার আমিই তামিম, - আচ্ছা ভিতরে আসো, - জ্বী স্যার। লিমা এইসব আয়োজন দেখে কিছু বলতে যাবে তার আগেই মি. আনোয়ার সাহেব বললো, " লিমা তোমার রুমটা তাড়াতাড়ি খালি কর " লিমা তার রুমটা খালি করার কথা শুনে তার বাবার দিকে রাগান্বিত চোখে তাকায়, মি. আনোয়ার সাহেব তা উপেক্ষা করে আবারো বললো, - লিমা বাড়িতে তোমার রুমটা সবচেয়ে সুন্দর এবং গোছালো, তাই আমি ঠিক করেছি তোমার রুমেই তামিম থাকবে, - বাবা তাই বলে আমার রুমটা, - লিমা বেশী কথা না বলে যা বলছি তাই করো, তাড়াতাড়ি গিয়ে রুমটা খালি কর, লিমা রাগান্বিত হয়ে রুমে চলে গেলো, আর তামিমকে মনে মনে গালি দিতে লাগলো," কত বড় সাহস, কে ও? যার জন্য এত খাতির যত্ন করতেছে, আসতে না আসতেই আমার রুমটা দখল করে নিলো, মন চাচ্ছে কাচা খেয়ে পেলি" - তামিম বসো, - জ্বী স্যার, - নাও ঠান্ডা শরবত খাও, এতটা দুর জার্নি করে এসেছো, - নাহ স্যার এসবের দরকার নাই, আমার একটু বিশ্রামের দরকার। - অকে তুমি রুমে যাও, মি.আনোয়ার সাহেব উপরের একটা রুম দেখিয়ে দিলো, তামিম শিড়ি বেয়ে রুমের দিকে যেতে লাগলো,এদিকে লিমা তখনো তামিমকে ফুসফুস করে বকা দিতে লাগলো। . . . চলবে ( গল্পটি কার কেমন লাগলো জানি নাহ, আশা করি সবার ভালো লাগবে।)